October 17, 2026, 8:59 pm
রংপুরে জিলা স্কুল মাঠে আজ বুধবার আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সমাবেশ। বিকেল ৩টায় সমাবেশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশ সফল করতে ভোর থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে বাস-ট্রাকযোগে নেতা-কর্মী, সমর্থকেরা সমাবেশস্থলে যোগ দিচ্ছেন। এতে মহাসড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে বাস সংকট।
এ দিকে গন্তব্যে পৌঁছাতে দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মিললেও, ভাড়া গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ।
সকাল ১০টায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের শলেয়াশাহ বাজারে কথা হয় হাজীরহাটের বাসিন্দা গৃহবধূ শরিফা বেগমের সঙ্গে। তিনি দেড় ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করে অবশেষে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উঠেছেন। শরিফা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘সরকারে সমাবেশ আর দুর্ভোগ হামার। সকাল থাকি দেড় ঘণ্টা ধরি দাঁড়ে আছি, বাস নাই। অটোত উঠনো তাক ২০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা চাওছে, কম কইলে উঠায় না।’
এ সময় পাগলীর বাজারে আরও কয়েকজন যাত্রীকে বাসের অপেক্ষায় দেখা যায়। তাদের মধ্যে খলিলুর রহমান নামের একজন বলেন, ‘ভাই আইজ লোকাল বাস খুব কম। সউগ বাস হামার প্রধানমন্ত্রী সমাবেশোত লোক নিয়া গেইছে। অটোর ভাড়া তিন গুন হইছে। তারাগঞ্জ যাব, কম টাকায় যাওয়ার জন্যে বাসের আশায় আছি।’
ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়ে কথা হলে ইজিবাইক চালক এরশাদ উদ্দিন বলেন, আজ সমাবেশে বাস সড়কে বাস নাই, যাত্রীও নাই। দু-একজনকে নিয়ে যেতে হচ্ছে এ জন্য একটু বেশি বাড়ায় নেওয়া হচ্ছে যাতে লোকসান না হয়।
শুধু রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের শলেয়াশাহ ও পাগলাপীর বাজারেই নয়; বাস সংকটে এমন দুর্ভোগে পড়েছেন রংপুরের আট জেলার মানুষ।
দিনাজপুর থেকে ভোরেই বাস নিয়ে রংপুরে পৌঁছেছেন বাসচালক আক্তার আলী। সিও বাজার হেলিপ্যাড মাঠে গাড়ি গ্যারেজ করেছেন। সেখানে বাস সংকটে যাত্রীদের দুর্ভোগ নিয়ে কথা হয় তিনি বলেন, ‘আজ যাত্রীদের ভোগান্তি মেনে নিতে হবে। দিনাজপুরের রংপুরসহ বিভিন্ন রুটে ৩০০ বাস চলে। ২৫০ টারও বেশি বাস সমাবেশে আসছে। আওয়ামী লীগ হোক, বিএনপি কিংবা জামায়াত যে দলেরই সমাবেশ হোক না কেন বাস সংকট হবেই।’
মাঠে কথা হয় আল আকসা পরিবহনের বাসচালক মোহন রায়ের সঙ্গেও। তিনি বলেন, ‘যে কোনো নেতা আসুক, প্রধানমন্ত্রী আসুক গাড়ির মালিকদের কাছে নেতারা গাড়ি ভাড়া নেয়। আমরা লোকজন নিয়ে সমাবেশে আসি। সমাবেশের সময় দুই একটা বাস ছাড়া, সব বাস বন্ধ থাকে। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী রুটে ১৫ বাস চলে, ১৫টা বাসই ভোরে সমাবেশে রংপুর আসছে।’
এ দিকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নেতা-কর্মীরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার হাতে নিয়ে মিছিল আর স্লোগান ধরে, পায়ে হেঁটে সমাবেশস্থল জিলা স্কুল মাঠের দিকে ছুটছেন। মোড়ে মোড়ে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সমাবেশস্থলের আশপাশে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।